মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ফারুক শেখ (৪৬) নামে এক চায়ের দোকানদারকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার পৌর জামতলা এলাকার নিজ ঘর থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত ফারুক শেখ গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার খালেক শেখের ছেলে। তার গলা, হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফারুক শেখ ও তার ভাই দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় চায়ের দোকান করতেন। তারা পালাক্রমে দোকানে কাজ করতেন এবং একটানা চার দিন করে দায়িত্ব পালন করতেন। গত শুক্রবার ফারুকের দোকানে কাজের দায়িত্ব শেষ হয়। ফলে শনিবার সকালে তিনি দোকানে যাননি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফারুক জামতলা এলাকার একটি হোটেল থেকে নাস্তা করে বাড়িতে ফিরে নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এরপর দুপুরে তার বাবা খাবার নিয়ে ঘরে যান। এ সময় তিনি বিছানার ওপর ফারুকের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ছেলের মরদেহ দেখে তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেন।
নিহতের ভাই বারেক শেখ বলেন, তারা দুই ভাই দৌলতদিয়া ঘাটে চায়ের দোকান করতেন। পালাক্রমে চার দিন করে দোকানে দায়িত্ব পালন করেন। গত শুক্রবার ফারুকের দায়িত্ব শেষ হয়েছিল। শনিবার দুপুরে বাড়িতে খাবার নিয়ে এসে তিনি ভাইকে ঘরের ভেতর মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় আশপাশে কাউকে দেখতে পাননি বলেও জানান তিনি।
জামতলা এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী জীবন শেখ বলেন, শনিবার সকাল ৭টার দিকে ফারুক তার দোকান থেকে নাস্তা করে বাড়ির দিকে চলে যান। এরপর তার সম্পর্কে আর কোনো কিছু তিনি জানেন না।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফারুক শেখ টাঙ্গাইল ও দৌলতদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিয়ে করেছিলেন। পরিবারের দাবি, তার ৬-৭টি বিয়ে হয়েছিল। তবে বর্তমানে কোনো স্ত্রীই তার সঙ্গে থাকতেন না।
খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের গলা ও হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।