রুবেল ফরাজী, নিজেস্ব প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের শিবচরে জমি-জমা বিরোধের জেরে এক বিএনপি নেতাকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিএনপি নেতা সহ বাবা ও ভাই গুরুতর আহত হয়েছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে তাদের অবস্থা আশঙ্গাজনক হওয়ায় বিএনপি নেতা সহ বাবা ও ভাইকে কর্তব্যরত চিকিৎসক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অভিযোগকারী জামাল মাদবর ভদ্রাসন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি বলে জানা গেছে।
জামাল মাদবরের অভিযোগ, তারা গত পাঁচ বছর ধরে ২০ শতাংশ জমিতে কৃষিকাজ করে আসছেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন। চলতি বছরও ওই জমিতে ধান চাষ করেন তারা। ধানের ফলন ভালো হওয়ার পর জমির মালিকপক্ষ জমি ফেরত চাইলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এরফান মাদবরের সঙ্গে আলোচনা করে ধান কাটার পর জমি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান (২৩ আগস্ট ) রবিবার রাত ১১টার দিকে দুলাল বেপারী, রাজিব বেপারী, রাশেদুল বেপারী, মতি বেপারীসহ কয়েকজন লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে ও তার বাবাকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর ভদ্রাসন ইউনিয়ন ফাঁড়িতে অভিযোগ করেন। ফাঁড়ির ইনচার্জ মজান্মেল তাকে (২৪ আগস্ট) সমবার সকালে ফাঁড়িতে দেখা করতে বলেন। পরে সকালে বাবা ও ভাইকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশায় ফাঁড়ির দিকে যাওয়ার সময় ফাঁড়ির কাছাকাছি এলাকায় পৌছালে দুলাল বেপারী ও তার সহযোগীরা আবারও তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তারা ফাঁড়িতে পৌঁছাতে পারেননি বলে দাবি করেন জামাল।
জামাল মাদবরের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তরা অতীতেও তাদের ওপর বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছেন। তার দাবি, অভিযুক্ত দুলাল বেপারী আওয়ামী লীগের আমলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পরও এলাকায় তাদের প্রভাব ও আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে।
জামাল মাদবর বলেন, “আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন আমাদের ওপর আর কোনো হামলা না হয়, সে জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে ভদ্রাসন ইউনিয়ন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মজান্মেলের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত দুলাল বেপারী ও তার সহযোগীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।