সাদ্দাম হোসেন সাইফ, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বৃহত্তর ৩ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নকে বিভক্ত করে প্রস্তাবিত ৮ নং ইয়াংছা ইউনিয়ন গঠনের লক্ষ্যে ইয়াংছা বাজারে স্থানীয় জনসাধারণ ও লামা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গণশুনানি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের প্রশাসক জনাব মঈন উদ্দিন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব আব্দুচ্ছালাম মেম্বার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফসিউল আলম চৌধুরী, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আবু বক্কর, ইয়াংছা বাজার সমিতির সভাপতি আব্দুল হামিদ এবং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ২৮৪ নং ইয়াংছা মৌজার হেডম্যান ক্যাছিংহ্লা নিমু, ২৮৫ নং সাংগু মৌজার হেডম্যান চম্পট ম্রো এবং জীনামেজু অনাথ আশ্রমের পরিচালক নন্দমালা ভিক্ষুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ।
গণশুনানিতে বক্তারা প্রস্তাবিত ইয়াংছা ইউনিয়ন গঠন নিয়ে নিজেদের মতামত, প্রত্যাশা ও বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। নতুন ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ ইতিবাচক মতামত দিলেও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়।
আলোচনায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত ইয়াংছা ইউনিয়নের আয়তন প্রায় ১২৭ বর্গকিলোমিটার, বিপরীতে প্রস্তাবিত ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের আয়তন প্রায় ৫৬ বর্গকিলোমিটার। এ অসম বণ্টন নিয়ে আপত্তি জানান প্রস্তাবিত ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের পক্ষে ফসিউল আলম চৌধুরী। তিনি উপজেলা প্রশাসন ও ইয়াংছাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, ইউনিয়ন বিভক্তির ক্ষেত্রে সীমানা যেন যথাসম্ভব সমান ও ন্যায্যভাবে নির্ধারণ করা হয়।
ইয়াংছাবাসীর পক্ষ থেকেও জানানো হয়, ন্যায্যতা বজায় রেখে সীমানা নির্ধারণ করা হলে তারা সমানভাবে বিভক্তির বিষয়ে আপত্তি করবেন না।
তবে এর বিপরীতে ২৮৫ নং সাংগু মৌজার হেডম্যান চম্পট ম্রো, ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মংমেগ্য মার্মা এবং ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আপ্রুছিং মার্মা জানান, তারা সমান ভাগে বিভক্তির প্রস্তাবে রাজি নন। তারা নিজেদের এলাকা প্রস্তাবিত ইয়াংছা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত রাখার দাবি জানান।
বক্তাদের ভিন্ন ভিন্ন মতামত ও সীমানা নিয়ে মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ ও চিন্তার সৃষ্টি হয়। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মতপার্থক্য দীর্ঘায়িত হলে ইউনিয়ন বিভক্তির প্রক্রিয়া জটিল হয়ে যেতে পারে।
তবে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়—যে কোনো যৌক্তিক সমাধান ও সমন্বয়ের মাধ্যমে হলেও বৃহত্তর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নকে বিভক্ত করে নতুন ইয়াংছা ইউনিয়ন গঠন করতে হবে। দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ, প্রশাসনিক সেবা সহজীকরণ এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে তারা নতুন ইউনিয়ন গঠনের দাবি জানান।
গণশুনানিতে উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের প্রশাসক জনাব মঈন উদ্দিন। তিনি সকল পক্ষের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সকল পক্ষের মতামত ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে প্রস্তাবিত ৮ নং ইয়াংছা ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।