নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণের সম্মিলিত শক্তিকে কোনো স্বৈরশাসক দীর্ঘদিন দমিয়ে রাখতে পারে না। জনগণের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হলে সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষমতার কাঠামোও মুহূর্তে ভেঙে পড়ে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও বিজয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অবদান’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভীর ভাষ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ঘটনা। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিপ্লবের মতোই এই আন্দোলনও জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও সংগ্রামের বহিঃপ্রকাশ ছিল এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট।
তিনি দাবি করেন, আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালকসহ সমাজের নানা স্তরের মানুষের আত্মত্যাগ এ আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়। তাদের অবদান ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি নেতা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। সেই ধারাবাহিক সংগ্রামের ফল হিসেবেই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচনা করে রিজভী অভিযোগ করেন, তার শাসনামলে অর্থনৈতিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের ঘটনা ঘটেছে। জনগণের প্রতিরোধের মুখেই সেই শাসনের অবসান হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনে বিএনপি ও ছাত্রদলের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। তার নির্দেশনায় ছাত্রদল সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নেয় এবং এতে গণসম্পৃক্ততা আরও বৃদ্ধি পায় বলে তার দাবি।
রিজভী আরও বলেন, ইতিহাসকে রাজনৈতিকভাবে নিজেদের অনুকূলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হলেও প্রকৃত ঘটনা জনগণের স্মৃতিতে অমলিন থাকে। জনগণের অংশগ্রহণ, আত্মত্যাগ এবং নেতৃত্বের ভূমিকা কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।