হরমুজে মাইন সরানোর দাবি ট্রাম্পের, তবু স্বাভাবিক হয়নি জাহাজ চলাচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পেতে রাখা মাইন সরিয়ে ফেলার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কার্যত পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পরও প্রণালিটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম রয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালির বিভিন্ন অংশ থেকে মাইন অপসারণ করেছে। এরই মধ্যে কয়েকটি জাহাজ ওই জলপথ ব্যবহার করেও চলাচল করছে বলে জানান তিনি।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আর কোনো শক্তি কার্যকরভাবে নেই। তিনি দাবি করেন, জলপথটি এখন উন্মুক্ত এবং সেখানে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প স্বীকার করেন, ইরান চাইলে আবারও প্রণালিতে মাইন স্থাপন করতে পারে। সে ক্ষেত্রে মার্কিন নৌবাহিনী সেগুলো শনাক্ত করে অপসারণ করছে বলেও জানান তিনি।

মার্কিন সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ‘ইস্পাতের দেয়াল’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, ইরান মাঝেমধ্যে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করলেও এতে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে বড় কোনো পরিবর্তন ঘটছে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধও অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে।

ট্রাম্প প্রণালিটি খোলা থাকার কথা বললেও শিপিং তথ্য বলছে, সেখানে জাহাজ চলাচলের গতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। সোমবার মাত্র ছয়টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। অথচ তার আগের ১০ দিনের দৈনিক গড় ছিল প্রায় ১১টি জাহাজ।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার চারটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে। এর মধ্যে দুটি ছিল খালি তেলবাহী ট্যাংকার। একই সময়ে আরও দুটি জাহাজ প্রণালি থেকে বের হয়ে যায়—একটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি এবং অন্যটি অবশিষ্ট জ্বালানি বহন করছিল।

হরমুজের সঙ্গে অন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথের তুলনাতেও পার্থক্য স্পষ্ট। সোমবার লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে ২৫টি জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে আগের ১০ দিনের দৈনিক গড় ছিল প্রায় ২৪টি।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ও উন্মুক্ত থাকার দাবি করা হলেও বাস্তবে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল এখনো আগের স্বাভাবিক মাত্রায় ফেরেনি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে হরমুজের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর এর প্রভাব অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top