যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় বড় ফি, ভারতীয়দের ওপর প্রভাবের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ প্রত্যাশী বিদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন করে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা এবং এফ-১ ভিসার অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচিতে বড় অঙ্কের নতুন ফি আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রস্তাবগুলো কার্যকর হলে বিদেশি কর্মী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং তাদের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়তে পারে।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার পর্যন্ত ফি নির্ধারণের একটি প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) এটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয়। গত বছরও একই ধরনের ১ লাখ ডলারের ফি আরোপ করা হয়েছিল, তবে আদালতের হস্তক্ষেপে সেটি কার্যকর হওয়া আটকে যায়।

করপোরেট অভিবাসনসেবা প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি ভিসায় স্পনসর করে, তাদের ওপর এর সরাসরি আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে।

ভারতীয়দের ওপর বেশি প্রভাবের আশঙ্কা

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় নাগরিকদের ওপর। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের ৭০ শতাংশের বেশি ভারতীয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) ২০২৪ সালে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৪০২টি এইচ-১বি আবেদন অনুমোদন করে। এর মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আবেদনকারীদের অংশ ছিল প্রায় ৭১ শতাংশ।

ফলে ভিসা-সংক্রান্ত ব্যয় বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত এবং ভবিষ্যতে দেশটিতে চাকরির পরিকল্পনা করা ভারতীয় পেশাজীবীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

ওপিটিতেও ১ লাখ ডলারের ফি?

এইচ-১বি ভিসার পাশাপাশি এফ-১ শিক্ষার্থীদের ওপিটি কর্মসূচি নিয়েও নতুন ফি আরোপের উদ্যোগ চলছে। ফ্র্যাগোমেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিএইচএস ওপিটি আবেদনের ক্ষেত্রে প্রায় ১ লাখ ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব দিতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য বলছে, ওপিটি-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি ২০ আগস্ট হোয়াইট হাউজের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের (ওএমবি) কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট কিছু এইচ-১বি আবেদনে ফি আরোপের আরেকটি প্রস্তাব ১৯ আগস্ট ওএমবিতে পাঠানো হয় এবং একই দিন তা পর্যালোচনার পর অনুমোদন পেয়েছে।

তবে এসব প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোন ধরনের আবেদন বা কোন শ্রেণির কর্মী ও শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে কত ফি কার্যকর হবে, তা আনুষ্ঠানিক বিধিমালা প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।

চাকরি হারালে ৬০ দিনের সুযোগও প্রশ্নে

বিদেশি কর্মীদের জন্য শুধু নতুন ফি নয়, চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ নিয়েও পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ডিএইচএস চলতি মাসের শুরুতে এইচ-১বি কর্মীদের বিদ্যমান ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব দেয়। বর্তমানে চাকরি হারানো এইচ-১বি কর্মীরা নির্দিষ্ট শর্তে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন চাকরি খোঁজার সুযোগ পান।

প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এই সুবিধা আর নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে চাকরি হারানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দ্রুত নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে হবে অথবা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।

এর প্রভাব কর্মীদের পাশাপাশি তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ওপরও পড়তে পারে। অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে চাকরি শেষ হয়ে যাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে বর্তমান গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হলে অভিবাসন-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভারতীয়দের জন্যও উদ্বেগ

সাম্প্রতিক মার্কিন আদমশুমারির তথ্যভিত্তিক হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৫২ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করছেন। এর পাশাপাশি প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক ভারতীয় শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় প্রবেশ করেন।

ফলে এইচ-১বি ভিসার ব্যয় বৃদ্ধি, ওপিটির সম্ভাব্য নতুন ফি এবং চাকরি হারানোর পর গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের মতো পরিবর্তন কার্যকর হলে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা থেকে কর্মজীবনে যাওয়ার পথ আরও ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

তবে প্রস্তাবগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আনুষ্ঠানিক বিধিমালা প্রকাশ, পর্যালোচনা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোন পরিবর্তন বাস্তবে কার্যকর হবে, সেটিই এখন নজরদারির বিষয়।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top