আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ তাঁর এক পুত্রবধূর রাজকীয় মর্যাদা ও সব ধরনের আনুষ্ঠানিক উপাধি প্রত্যাহার করেছেন। রাজপরিবারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ এবং সুলতানের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের অভিযোগে ৩৩ বছর বয়সী পেঙ্গিরান রাবিয়াতুল আদাবিয়ার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রাজপ্রাসাদের ঘোষণায় জানানো হয়েছে।
তবে ঠিক কী ধরনের আচরণের কারণে পেঙ্গিরানের বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। রাজপ্রাসাদ থেকে প্রকাশিত ঘোষণায় শুধু বলা হয়েছে, রাজপরিবারের একজন সদস্যের স্ত্রী হিসেবে তার কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।
পেঙ্গিরান রাবিয়াতুল আদাবিয়া ব্রুনাইয়ের রাজপুত্র আবদুল মালিকের স্ত্রী। ২০১৫ সালে তাদের বিয়ে হয়। ওই বিয়েকে কেন্দ্র করে রাজপরিবারে টানা ১০ দিনব্যাপী জমকালো আয়োজন করা হয়েছিল। তাদের সংসারে চার কন্যাসন্তান রয়েছে।
রাজপ্রাসাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেঙ্গিরানের নিজের রাজকীয় সম্মান ও উপাধি বাতিল হলেও তার চার মেয়ের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তারা আগের মতোই রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে প্রাপ্য মর্যাদা ও উপাধি ভোগ করবে।
সুলতানের নির্দেশেই পুত্রবধূর বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনাটির পেছনে থাকা নির্দিষ্ট অভিযোগ বা ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ না করায় বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ব্রুনাই আয়তনে ছোট হলেও তেল ও গ্যাসসম্পদের কারণে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। ১৯৮৪ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই হাসানাল বলকিয়াহ দেশটির সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।
দীর্ঘ সময় ধরে সিংহাসনে থাকা রাজাদের মধ্যে হাসানাল বলকিয়াহ অন্যতম। ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজপরিবারের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী।
এর আগেও সুলতানের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সমকামী সম্পর্ক ও পরকীয়ার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শরিয়াভিত্তিক শাস্তির বিধান কার্যকরের উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। ওই সময় হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনিসহ বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক পরিচিত ব্যক্তি ব্রুনাইয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।