আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারী একটি ফেরি ডুবে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল নতুন করে আরও চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জিম্বাবুয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বশেষ চারটি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, এটি জিম্বাবুয়েতে এ ধরনের দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহগুলোর একটি। মঙ্গলবার প্রবল বাতাসের মধ্যে জাম্বিয়ার সীমান্তসংলগ্ন কারিবা হ্রদে ফেরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ফেরিটিতে প্রায় ১৫৩ জন যাত্রী ছিলেন। অথচ এর অনুমোদিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন। দুর্ঘটনার সময় ফেরিতে প্রকৃতপক্ষে কতজন যাত্রী ও নাবিক ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফেরিটি জিম্বাবুয়ের উত্তরের কারিবা শহর থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় যাচ্ছিল। ওই অঞ্চলে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে এবং স্থানীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে নৌযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে উদ্ধার কার্যক্রম ও স্বজনদের অপেক্ষার দৃশ্যে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে একটি হাসপাতালের বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ অপেক্ষা করছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৮ শিশু রয়েছে বলেও জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
দুর্ঘটনার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি পরিবহণ ব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতা ও নিরাপত্তা ঘাটতি দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেরিডুবির প্রকৃত কারণ এবং দুর্ঘটনার সময় নৌযানটিতে কতজন মানুষ ছিলেন, তা জানতে তদন্ত চলছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বৈরী আবহাওয়া এবং নৌযানের নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।
উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধান এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে কাজ করছেন উদ্ধারকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।