নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ভবন ধ্বংসের অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। একই আবেদনে অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৫ হাজার ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামের এক নারী এ আবেদন করেন। তবে আদালত এখনো আবেদনটি গ্রহণ করে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শরীফ উদ্দিন জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়েছেন। মামলার আবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পর আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট বিপুলসংখ্যক মানুষ কয়েকজন অভিযুক্তের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ, উসকানি ও সহযোগিতায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক ভবনে হামলা চালায়। হামলার সময় ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি সেখানে সংরক্ষিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন, নথিপত্র, বই এবং মূল্যবান সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত ও লুট করা হয়েছে বলে মামলার আবেদনে দাবি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তী সময়ে বুলডোজার, এক্সকাভেটর, হ্যামারসহ ভারী যন্ত্রপাতি ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়। এসব যন্ত্র দিয়ে ভবনটি ভাঙার কার্যক্রম শুরু হয় এবং রাতভর চলার পর পরদিন ৬ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত ভবন ধ্বংসের কাজ অব্যাহত থাকে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার আবেদনে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, ওই পোস্টের পর একটি মিছিল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে গিয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং বিস্ফোরক ব্যবহারের মাধ্যমে ভবনটি ধ্বংস করে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও হাসনাত আবদুল্লাহ ছাড়াও মামলার আবেদনে সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, নাহিদ ইসলাম, মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী, শফিকুল আলম, লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মাহফুজ আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আক্তার হোসেন, সারজিস আলম, আবদুল হান্নান মাসুদ, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব ও সালেহ উদ্দিন সিফাতের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসাইন, কনক সারওয়ার, কর্নেল (অব.) নুরনবী, তাহরিমা জান্নাত সুরভী, মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী এবং আবুল কালাম আজাদকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বাদীপক্ষ দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারার পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গ্রহণের আবেদন করেছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিরও আবেদন জানানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। মামলার আবেদন গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা হবে কি না এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।