মোহাইমিনুল হাসান, সরকারি শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে প্রতিনিধি:
রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে বিকেল ৪টার পর শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে অবস্থান নিষিদ্ধ করেছে কলেজ প্রশাসন। এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,কলেজের সকল শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে বিকেল ৪টার পর ক্যাম্পাসে অবস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কলেজ প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী,শিক্ষা-সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবেন।তবে সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো শিক্ষার্থী কোনো কারণেই ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবেন না।
কলেজ প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিকেল ৪টার পর ক্যাম্পাসে অবস্থান নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম জানান,সরকারি কলেজের ক্যাম্পাস শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা,গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। তাই সুনির্দিষ্ট কারণ ও বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া বিকেল ৪টার পর শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিষিদ্ধ করা শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নয়।শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থাকার নিয়মটিও বাস্তবে নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে। আমরা সিদ্ধান্তটির সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ,স্বচ্ছ নিয়ম প্রণয়ন এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রয়োজন বিবেচনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরমান আলী বলে,আমরা প্রশাসনের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই বুঝি। কিন্তু বিকেল ৪টার পর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অবস্থান পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ মনে হচ্ছে।আমরা জানতে চাই,এটা কি বিশ্ববিদ্যালয়,নাকি স্কুল?বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীলভাবে ক্যাম্পাস ব্যবহারের সুযোগ থাকা উচিত। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিয়ম করা যেতে পারে, কিন্তু সবার জন্য একইভাবে বিকেল ৪টার পর ক্যাম্পাসে অবস্থান নিষিদ্ধ করা কোনোভাবেই শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নয়।
বাংলা বিভাগ এর শিক্ষার্থী নাফিউল ইসলাম বলেন,কলেজ শুধু নির্ধারিত ক্লাস করার জায়গা নয়,এটি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা,সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান।হঠাৎ করে কলেজ প্রশাসন এর এমন সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানাই।
অন্যদিকে,কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা,শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।