মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও অবস্থান লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। সোমবার ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে শাফাক নিউজ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন নৌযান ছিল।

তবে ইরানের হামলার মাত্রা ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করেই ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তার দাবি, ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই প্রতিহত করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হামলার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। সংগঠনটির দাবি, লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবেই ইরানের মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

বিমানঘাঁটিতে বড় ক্ষয়ক্ষতির দাবি আইআরজিসির

আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বিমানঘাঁটিগুলোর কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো এবং মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার এলাকাগুলোতে আঘাত করেছে। সংগঠনটির দাবি, এসব হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে পাল্টাপাল্টি হামলা

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্স ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতি এবং সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আইআরজিসির দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থানে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতি ঠেকাতেই ওই হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে আইআরজিসি এটিকে সরাসরি আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

হতাহত ও প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি

আইআরজিসির দাবি, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় তাদের কয়েকজন সদস্যের পাশাপাশি বেসামরিক লোকজনও নিহত ও আহত হয়েছেন। হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে এর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।

এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি, জর্ডান ও কাতারে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ইরানের হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি, হতাহতের সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top