নিজস্ব প্রতিনিধি:
হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে আগামী বছরের হজ প্যাকেজ ও বিমান ভাড়ায় বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে সরকার। ২০২৭ সালের জন্য নির্ধারিত দুই প্যাকেজের মূল্যই ২০২৬ সালের তুলনায় কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্যাকেজের আওতায় খাবারের খরচও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-১-এর মূল্য ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৭৭ টাকা। আগামী বছর একই প্যাকেজের খরচ কমিয়ে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে একজন হজযাত্রীর ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ৭৫ হাজার ৩৫৪ টাকা কমেছে। এ প্যাকেজের মোট মূল্যের মধ্যেই খাবারের জন্য ৩৯ হাজার ১৩৬ টাকা রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-২-এর মূল্য ছিল ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা। ২০২৭ সালের জন্য তা কমিয়ে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এ প্যাকেজে ব্যয় কমেছে ৫৩ হাজার ২৩৩ টাকা। এ প্যাকেজের মধ্যেও খাবার বাবদ ২৯ হাজার টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, আগামী বছরের হজযাত্রীদের বিমান ভাড়াও কমানো হয়েছে। ২০২৬ সালে বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা। ২০২৭ সালে তা ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তার মতে, সাধারণত সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন সেবা ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও হজযাত্রীদের কথা বিবেচনা করে এবার প্যাকেজ ও বিমান ভাড়া কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হজের সামগ্রিক ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, ২০২৬ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৪ হাজার ৩৮১ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। নির্ধারিত বিভিন্ন খাতের ব্যয়ের তুলনায় প্রকৃত খরচ কম হওয়ায় হিসাব শেষে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে।
ধর্মমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই উদ্বৃত্ত অর্থ কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নয়, বিএফটির মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হজ ব্যবস্থাপনায় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সেবার মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।