নিজস্ব প্রতিনিধি:
ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হেনস্তা ও হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বাঁধন বলেন, তিনি ভালো আছেন। যারা ঘটনার পর তার খোঁজ নিয়েছেন এবং পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বাঁধন অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তার সঙ্গে ওই অপ্রীতিকর আচরণ করেছেন। ঘটনার পর দেশ-বিদেশের অনেক মানুষ ফোন করে তার পরিস্থিতি জানতে চেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বাঁধন বলেন, এমন ঘটনায় তিনি ভেঙে পড়েননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর ভেনিসের স্থানীয় পুলিশ তাকে সহযোগিতা করেছে এবং রাতে নিরাপদ একটি স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
অভিনেত্রী জানান, বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও তিনি সহযোগিতা পেয়েছেন। দূতাবাসের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তাদের সহায়তায় থানায় গিয়ে মামলার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার পক্ষে তাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন বাঁধন। তার ভাষ্য, হামলার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে তারা ইতোমধ্যে শনাক্ত করতে পেরেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভেনিসে যাওয়ার কারণ হিসেবে বাঁধন চলচ্চিত্র নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার আন্তর্জাতিক প্রদর্শনে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। সিনেমাটি ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অরিজন্তি বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছে।
ঘটনার সময় তার ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও তাদের ছোট সন্তানও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বাঁধন। নিজের কারণে পরিবারের সদস্যদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে—এ বিষয়টি তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় নিজের অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন বাঁধন। তিনি বলেন, ওই সময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি মনে করেন তিনি।
সবশেষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে বাঁধন বলেন, ভেনিসে মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন না। ঘটনার শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।