নিজস্ব প্রতিনিধি:
দেশের সব মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬ থেকে ২০৩১ অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশের সব মাদরাসায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও খাবারের সুবিধা পাবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মৌলভীবাজার-২ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা বাড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) অধীনে ‘মাদরাসা শিক্ষা উৎকর্ষ সহায়তা কর্মসূচি’ (এমইইএসপি) প্রণয়ন করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশের সব মাদরাসায় মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংসদে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
এর আগে সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম জানতে চান, সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করলেও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কেন একই সুবিধার বাইরে থাকছে। বিশেষ করে এতিমখানার মতো সুবিধাবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের কর্মসূচি না থাকার বিষয়টিও তিনি প্রশ্নে তুলে ধরেন।
এদিকে, এর এক দিন আগে সোমবার সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছিলেন, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হার কমাতে আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার।
তিনি বলেন, ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ধরে রাখতে পুষ্টিকর খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে দেশের ১৫১টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে।
সরকার আগামী বছরের মধ্যে কর্মসূচিটির পরিধি বাড়িয়ে দেশের সব উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এটি চালুর পরিকল্পনা করেছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
খাবারের মান ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান বজায় রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে স্থানীয় মা-বোনদের সম্পৃক্ত করে ‘মাদরাসা কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে খাবার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশও পর্যায়ক্রমে বিদ্যালয়ভিত্তিক পুষ্টিকর খাবারের আওতায় আসবে।