নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের শিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ খাতে অর্থায়ন আরও বাড়ানো হবে।
শুক্রবার সকালে যশোরের সেক্রেড হার্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর গোল্ডকাপ ফুটবল দলের উদ্বোধন, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের কার্পণ্য করবে না। পর্যায়ক্রমে এ বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
দক্ষ প্রজন্ম গড়তে সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্ব
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত পাঠ্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার উপযোগী করে গড়ে তুলতে পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের তৃতীয় একটি ভাষা শেখানোর উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামুখী করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব যাদের হাতে যাবে, তাদের এখন থেকেই নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম হয়ে দেশের জন্য মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে হবে।
স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস
অনুষ্ঠানে সেক্রেড হার্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও কম্পিউটার ল্যাব আরও সম্প্রসারণ এবং বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিকে সমৃদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে এসব কাজে নিজের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভেরোনিকা যমুনা রোজারিওর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য রাজিদুর রহমান সাগরসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।