রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ৫ শিক্ষকেই চলছে ৬০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাজির উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬০০ শত শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ৬ জন শিক্ষক একজন বিএড করায় ৫ জন শিক্ষকের হাতেই রয়েছে ৬০০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদানের ভার। এখানে চতুর্থ শ্রেণি এবং তৃতীয় শ্রেণির কোন কর্মচারী না থাকায় শিক্ষকদের টেবিল মোছা সহ করতে হয় আনুষাঙ্গিক কাজ।

ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টি ১৯৩০ সালে জুনিয়র স্কুল হিসেবে গোয়ালন্দে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৪৩ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এখানে তৈরি হয়েছে অসংখ্য জ্ঞানীগুনি মানুষ। এই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সদ্য সাবেক ঢাকা অঞ্চলের মাধ্যমিক শিক্ষা পরিচালক কিন্তু তারপরও ভাগ্য বদলায়নি স্কুলের।

স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, বিষয়ভিত্তিক ইংরেজি শিক্ষক ও অংক শিক্ষক। ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে ইংরেজি পাঠদান। সৃষ্ট ২৬ পদের চতুর্থ শ্রেণির ৪ টি পদই খালি এবং রয়েছে তৃতীয় শ্রেণির তিনটি পদ খালি। নাইটগার্ড না থাকায় স্কুলটি সম্পূর্ণ অনিরাপদ। একজন নাইটগার্ড ছিল কিন্তু কিছুদিন আগে তাকে ইন্সিট্যান্ড রিলিজ করে মধুখালি মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে নেওয়া হয়েছে। বিষয় ভিত্তিক ক্লাস শুরু হলে সাতজন শিক্ষক দরকার হলেও ৫ শিক্ষক এবং একজন গেস্ট শিক্ষক মিলে সামলাতে হয় সব কিছু। প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্বে থাকা শিক্ষককে নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি সামলাতে হয় শ্রেণি কার্যক্রম।

এই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমান অভিভাবক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের সময় স্কুলটি এই অঞ্চলে সবচেয়ে ভালো ফলাফল করতো এবং নিয়মিত ক্লাস হতো সেটা ভেবেই ছেলেকে এই স্কুলে ভর্তি করে এখন মহাবিপদের মধ্যে আছি। স্কুলে শিক্ষক না থাকায় ক্লাস হয়না ফলে শুধু প্রাইভেট শিক্ষকের উপর নির্ভর করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এতে তার আসন্ন ফলাফল নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পরেছি।

এই বিষয়ে আরেক অভিভাবক তাহেরা খাতুন তিনি নিজেও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তিনি জানান, ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু শিখে যে পরীক্ষার হলে কাজে লাগে কিন্তু প্রাইভেটে সেটা সম্ভব না। ইংরেজি এবং অংকের মতো বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় স্কুলের শিক্ষার মান ভেঙে পড়েছে। অধিকাংশ সময় ছাত্র ছাত্রী স্কুলে যেতে চায় না আবার গেলেও চলে আসে শ্রেণি কার্যক্রম না চলার অযুহাতে। কর্তৃপক্ষ বিষয়টির দিকে নজর দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে আমি সহ মোট ছয় জন শিক্ষক এরমধ্যে ১ জন বিএড করায় মোট শিক্ষক ৫ জন। আমাকে অফিসের কাজের পাশাপাশি শ্রেণির কার্যক্রম চালাতে হয়। তাছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস শুরু হলে সাতজন শিক্ষকের দরকার হলেও পাচজন শিক্ষক দিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। তাছাড়া ঝাড়ুদার আয়া না থাকায় এগুলো নিজেদের করতে হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় ভয়ে থাকতে হয় কখন কি হয়।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা বলেন, বিষয়টি এর আগেও শুনেছি। এটা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং সেই সাথে স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারির ঘাটতি পুরনের চেষ্টা করা হবে।

পরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, ঢাকা অঞ্চল প্রফেসর মোঃ ইদ্রিস আলী বলেন, শিক্ষক বা কর্মচারী দেওয়া বিষয়ে দ্বায়িত্ব রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। বিষয়টি জানানো হবে এবং শিক্ষক কর্মচারীর ব্যাবস্থা করা হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top