নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন—দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এমন দাবির পর তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। একই আদেশে তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি এবং তানজীন ওহাব বৃষ্টির দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
দুদকের উপপরিচালক এ কে এম মাহবুবুর রহমান আদালতে তিনজনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, শেখ ফজলে শামস পরশ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি। অনুসন্ধান চলাকালে তারা বিদেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে দুদকের কাছে তথ্য রয়েছে।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তৃতীয় ব্যক্তি তানজীন ওহাব বৃষ্টির পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
পরশের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শেখ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের অবস্থান নিয়েও এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
শেখ ফজলে শামস পরশ এবং তার স্ত্রী নাহিদ সুলতানা যুথি বর্তমানে দেশের কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। দুদকের দাবি, অনুসন্ধানের মধ্যে তারা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন।
শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পরিচয়
শেখ ফজলে শামস পরশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শেখ ফজলে হক মনির ছেলে। শেখ ফজলে হক মনি ছিলেন শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরশের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান এবং তার বিদেশযাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে আদালতে উত্থাপিত অভিযোগের বাইরে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। দুদকের অনুসন্ধান ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।