নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের মাঠপর্যায়ে সরকারি কার্যক্রমের তদারকি ও সমন্বয় জোরদার করতে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে নজরদারি করাই হবে তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদের হুইপরা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলায় সরকারি কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি করবেন। একই সঙ্গে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবেন তারা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি নির্মূল বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সরকারি কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। সেই উদ্দেশ্যেই মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের মধ্যে জেলার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
এই দায়িত্ব বণ্টনের মধ্যে রাজধানী ঢাকার দায়িত্ব পেয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি একই সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণে নতুন দায়িত্বে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করছেন তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততাকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন তারা।
সরকারের এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের নিজ নিজ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সেবার মান, উন্নয়ন প্রকল্প এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন আরও গতিশীল করা এবং জনগণের কাছে প্রশাসনিক সেবার জবাবদিহিতা বাড়ানোও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
সরকারের প্রত্যাশা, দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি তদারকির ফলে জেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়বে এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়নে আরও গতি আসবে।