আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাঠামো হিসেবে আলোচিত ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বিশেষ করে ভারতের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ অবস্থানের কথা জানান।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও চুক্তিটিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে ভারতের মূল্যায়ন কী?
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, দিল্লি সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। বিশেষ করে কোনো ঘটনা ভারতের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত হলে বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে। একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এর আগে মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছিলেন, চুক্তিটি আরও বিস্তৃত হলে তা মুসলিম দেশগুলোর আত্মরক্ষার একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি এটিকে মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ চুক্তিটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখনো এতে যোগ দেওয়া বা না দেওয়ার প্রশ্ন আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসেনি। চুক্তির সদস্যদের অভিপ্রায় এবং বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তাদের অবস্থানের ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।
সংখ্যালঘু ইস্যুতেও বাংলাদেশের দায়িত্বের কথা বলল দিল্লি
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কয়েকটি হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে কি না এবং বিষয়টি ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ কি না—এমন প্রশ্ন করা হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে জয়সওয়াল বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা বাংলাদেশের সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব তাদের যথাযথভাবে পালন করা উচিত।
মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্য আগ্রহ এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা—দুই ইস্যুতেই ভারতের বক্তব্যে সরাসরি অবস্থান ঘোষণার পরিবর্তে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তাই গুরুত্ব পেয়েছে।