আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র তার চাপ প্রয়োগের নীতি থেকে সরে এসে আস্থার পরিবেশ তৈরি করলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা আবারও গঠনমূলক পথে ফিরতে পারে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, কূটনীতির পথে ফিরে যাওয়া এখনো অসম্ভব নয়। তবে সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের অবস্থান ও আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে।
আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে ওয়াশিংটনকে প্রথমে আস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সম্মানজনক ভাষায় যোগাযোগ, দেশটির অধিকার স্বীকার এবং পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছে না। তবে আলোচনায় ফেরার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও কর্মকাণ্ডে পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছে ইরান।
কাতারের সঙ্গে আলোচনা
এদিকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানির সঙ্গে বৈঠকের কথাও জানিয়েছেন আরাগচি। বৈঠকটিকে তিনি ‘গঠনমূলক ও সৃজনশীল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে দুই নেতার আলোচনায় নির্দিষ্ট কোন বিষয়গুলো উঠে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
কাতার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকট ও বিরোধে পরোক্ষ যোগাযোগ এবং মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে আরাগচি ও কাতারের শীর্ষ কূটনীতিকের এই বৈঠক আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
আলোচনার পথ এখনো খোলা
সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনার কথা বলা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তাদের মতে, তেহরান একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের নীতির বিরোধিতা করছে, অন্যদিকে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনাও বন্ধ করে দিচ্ছে না। অর্থাৎ ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে কূটনৈতিক উদ্যোগ পুনরায় শুরু করার জন্য একটি পথ খোলা রাখছে ইরান।
তবে সেই পথ কতটা কার্যকর হবে, তা অনেকাংশে ওয়াশিংটনের নীতি পরিবর্তন এবং দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের ওপর নির্ভর করবে।