নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে এসব যানবাহনের সঙ্গে জড়িত মানুষের কর্মসংস্থান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় থাকে—সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদে রেহানা আক্তার রানু ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বৃদ্ধি ও এর প্রভাব তুলে ধরে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব যানবাহনের সঙ্গে জীবিকার কারণে যুক্ত থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া অটোরিকশা জব্দ বা চালকদের হয়রানি করা সমাধান হতে পারে না।
অটোরিকশাগুলোকে প্রধান সড়কের পরিবর্তে নির্দিষ্ট অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি। পাশাপাশি বিআরটিএর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, অঞ্চলভিত্তিক জোন নির্ধারণ এবং সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জিং ব্যবস্থার কথা বলেন এই সংসদ সদস্য।
নীতিমালা কবে কার্যকর হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নীতিমালা ও বিধি প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলেও তাকে জানানো হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন বিধি বাস্তবায়নের সময় কোন কোন সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলতে পারবে, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। প্রধান প্রধান সড়কে এসব যানবাহনের চলাচল ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে অটোরিকশাচালকদের জীবিকার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না যাতে তাদের কর্মসংস্থান অপ্রয়োজনীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে পরিবেশগত ঝুঁকি কমানোর বিষয়টিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে অটোরিকশায় ব্যবহৃত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারিকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি জানান, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনাতেও নিয়ন্ত্রণ আনার উদ্যোগ রয়েছে। এমন ব্যাটারি ব্যবহারের শর্ত নির্ধারণ করা হবে, যাতে সেগুলো ডিজিটালভাবে শনাক্ত ও ট্র্যাক করা যায়। একটি নিবন্ধনের আওতায় অনুমোদনের চেয়ে বেশি সংখ্যক যানবাহন পরিচালনা ঠেকাতেও প্রয়োজনীয় বিধান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার অভিযোগ, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও চার্জিং স্টেশন পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের কিছু লোক জড়িত থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সব দিক বিবেচনায় নিয়েই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বেকারত্ব না বাড়িয়ে কর্মসংস্থান বজায় রাখা, পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সড়কে যানবাহনের শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা।
এর আগে বক্তব্যের শুরুতে রেহানা আক্তার রানু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদের ‘ড্যাসিং হিরো’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি মন্ত্রীকে ‘অলরাউন্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করে তার প্রশংসা করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করার অভিযোগও তোলেন।