ক্রীড়া ডেস্ক:
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনা শিবিরে নেমে এসেছে হতাশার ছায়া। এই পরাজয়ের পর দলের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগপূর্ণ বার্তায় জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা ফুটবল অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার। ম্যাচ শেষে ইনস্টাগ্রামে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন মার্তিনেজ।
বার্তায় তিনি জানান, আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং ট্রফি দেশের মানুষের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় গভীর হতাশার কথা তুলে ধরেন এই গোলরক্ষক।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য। তিনি ইঙ্গিত দেন, সামনে কী করবেন বা জাতীয় দলের জার্সিতে পথচলা অব্যাহত রাখবেন কি না—সেটি নিয়ে এখন গুরুত্বসহকারে ভাবার সময় এসেছে।
মার্তিনেজের এই বক্তব্যে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে তিনি শুধু দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষকই নন, বরং দলের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ফুটবলার হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ জয়ের সাফল্যে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
বিশ্বকাপের ফাইনালেও ব্যক্তিগতভাবে উজ্জ্বল ছিলেন মার্তিনেজ। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে তিনি ১১টি সেভ করেন, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ফাইনালের সর্বোচ্চ সেভের অন্যতম রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েও তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে।
সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, দেশের জন্য নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু দলকে শিরোপা এনে দিতে না পারায় তিনি দুঃখিত।
এদিকে শুধু মার্তিনেজই নন, বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নিজের দায়িত্ব এবং চুক্তির বিষয়টি নিয়ে ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা ফুটবলের সামনে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সফল এই দল কি আবারও নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াবে, নাকি এই পরাজয়ের মধ্য দিয়েই একটি স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে—সেই উত্তর এখন সময়ই দেবে।