নিজস্ব প্রতিবেদক:
ডারউইন টেস্টে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের কঠিন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন পেসার হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আট নম্বরে নেমে সবচেয়ে বেশি বল খেলার বাংলাদেশি ব্যাটারের রেকর্ড ভাঙার দোরগোড়ায় পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত তা নিজের করে নিতে পারেননি তিনি। জশ হ্যাজেলউডের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই থামতে হয়েছে তাকে।
আগের দিন বাংলাদেশের ইনিংসে দ্রুত তিনটি উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দলের ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হাসান। শুধু উইকেটে টিকে থাকাই নয়, অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দীর্ঘ সময় ধরে ব্যস্তও রাখেন তিনি।
মিরাজের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১৭০ বলের জুটিতে হাসানের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি খেলেছেন ৯২ বল, যেখানে মিরাজ মোকাবিলা করেছেন ৭৮ বল। প্রায় ৩০ ওভার স্থায়ী এই জুটি অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়।
দুজনের প্রতিরোধে বাংলাদেশের লিডও দ্রুত বাড়তে থাকে। হাসান আউট হওয়ার সময় সফরকারীদের লিড পৌঁছে যায় ১৫৬ রানে। ফলে তার ৪৬ রানের জুটি দলের অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে।
রেকর্ডের দিক থেকেও হাসানের ইনিংসটি ছিল বিশেষ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে আট নম্বরে নেমে সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ডটি বর্তমানে নাসির হোসেনের দখলে। ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে তিনি ৯৭ বল মোকাবিলা করেছিলেন।
হাসান সেই রেকর্ড থেকে মাত্র ছয় বল দূরে ছিলেন। কিন্তু ইনিংসের ১১৪তম ওভারে হ্যাজেলউডের করা পঞ্চম বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান তিনি। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিলেও তাতে বাংলাদেশের এই পেসারের ভাগ্য বদলায়নি।
রেকর্ডটি হাতছাড়া হলেও হাসানের ব্যাটিং বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকল। লেজের দিকের একজন ব্যাটার হিসেবে দীর্ঘ সময় ক্রিজে থেকে মিরাজকে সঙ্গ দেওয়া এবং দলের লিডকে আরও নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কাজটি তিনি সফলভাবেই করেছেন।
ফলে ব্যক্তিগত রেকর্ড না হলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান টেস্টে হাসান মাহমুদের এই লড়াকু ইনিংস বাংলাদেশের ভালো অবস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখল।