স্পোর্টস ডেস্ক:
ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতেও দৃঢ়তা দেখিয়েছে সফরকারীরা। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১৫৩ রানে এগিয়ে গেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের আধিপত্য দেখা গেছে। প্রথম দিনে হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস ধসে পড়ে। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৬ উইকেট নিয়ে স্বাগতিক ব্যাটিং লাইনআপকে বিপর্যস্ত করেন এই পেসার। জবাবে দিনের শেষভাগে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে অস্ট্রেলিয়ার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করে।
দ্বিতীয় দিনেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম ও মুমিনুল হক শুরুতে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান। পরে নাজমুল হোসেন শান্তও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তানজিদ তুলে নেন দুর্দান্ত শতক—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের প্রথম সেঞ্চুরি এটি।
দিনের একপর্যায়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স স্পোর্টসের পর্দায় দেওয়া পূর্বাভাসও আলোচনায় আসে। তখন বাংলাদেশ ২ উইকেটে ১৪৭ রানে ব্যাট করছিল এবং অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল ৪৩ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ছিল ৫৬ শতাংশ, আর ড্রয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ।
তখনও অবশ্য বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের রান টপকাতে পারেনি। পিছিয়ে ছিল ৫১ রানে। কিন্তু এরপর ব্যাটাররা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসেন। দিনের শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার লিড পেরিয়ে বাংলাদেশ ১৫৩ রানের ব্যবধান তৈরি করেছে।
চা বিরতির সময় তানজিদ হাসান তামিমও ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের কথা জানান। তার ব্যাটিং এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলনও দেখা গেছে।
দ্বিতীয় দিনের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডার প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মেহেদী হাসান মিরাজ অপরাজিত ৩২ রান করে উইকেটে ছিলেন, আর হাসান মাহমুদও দিনের শেষ পর্যন্ত ক্রিজে ছিলেন।
ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতে। অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে বড় রান করতে হলে প্রথমে বাংলাদেশের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে নিতে হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ আরও কিছু রান যোগ করে লিড যত বড় করতে পারবে, স্বাগতিকদের ওপর চাপ তত বাড়বে।
ডারউইনে ২০০৩ সালের পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। আর এবার সেই মাঠেই ইতিহাস গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে সফরকারীদের সামনে। দ্বিতীয় দিনের পারফরম্যান্সের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সম্ভাব্য জয় আর শুধু কল্পনা নয়—ম্যাচের পরিস্থিতি সেটিকে বাস্তব সম্ভাবনায় পরিণত করেছে।