আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশও নির্বিঘ্নে তেল বিক্রি করতে পারবে না। একই সঙ্গে তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ঝুঁকির বাইরে থাকবে না।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সমঝোতার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। তার ভাষ্য, ইরানের তেল রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করা হলে একই অঞ্চলের অন্য রাষ্ট্রগুলোর জ্বালানি রপ্তানিও নিরাপদ থাকবে না।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে গালিবাফ বলেন, এ জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজন নেই। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর প্রণালিকে ঘিরে আগের পরিস্থিতি আর ফিরে আসবে না।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা হলে ইরান কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দেবে। পাশাপাশি এমন হামলায় যেসব দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করবে, তাদেরও বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা নীতির ভিত্তি হলো ‘চোখের বদলে চোখ’। তাই দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।
এরই মধ্যে ইরানের একটি সামরিক সূত্র আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ওই সূত্র আরও দাবি করে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদারে ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চললে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না। তবে নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবারই ইরানের অভ্যন্তরে একটি সেতু অথবা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাবে।
এদিকে তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি দ্বীপ এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার স্থান ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, গত জুনে পাকিস্তারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির একটি কাঠামোগত সমঝোতা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক তৎপরতায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থির রয়ে গেছে।