নিজস্ব প্রতিনিধি:
যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর এবং সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় একটি মাদরাসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নীলগঞ্জ এলাকার একটি মাদরাসা ও সংলগ্ন মসজিদকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিল। সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়ে। অভিযোগ ওঠে, মাদরাসার এক শিক্ষার্থী ও এক নারীকে ঘিরে বিরোধের পর সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও পরদিন নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মাদরাসার কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে সংসদ সদস্যের বাড়ির সামনে জড়ো হন। পরে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, মাদরাসার কার্যক্রমে বাধা দেওয়া এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি শান্ত করতে সংসদ সদস্যের এক স্বজন ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ তাকে ঘিরে ধরে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তার স্ত্রী শারমিন ভিনা বলেন, তাদের মেয়ে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। মাদরাসার আশপাশে প্রায়ই জটলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ায় তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং বাড়িতে হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, এলাকার সড়কে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ভিড় নিয়ে কথা বলার জেরে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার মেয়ের ওপর হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং পরে তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। তিনি পুরো ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে।