আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচল নিয়ে ওমানের দেওয়া যৌথ ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত না হলে বর্তমান প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে ওমানের কাছে নতুন একটি বিকল্প পরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, একদিকে চলাচলকারী সব জাহাজ ইরানের জলসীমা ব্যবহার করবে এবং বিপরীতমুখী নৌপথের একটি অংশও ইরানের সামুদ্রিক সীমানার ভেতর দিয়ে পরিচালিত হবে।
তিনি জানান, ওমান যদি এই প্রস্তাবে সম্মতি না দেয়, তাহলে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রশ্নই উঠবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওমান উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণ দিকের নৌপথকে ইরান কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বৈধ রুট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমান হরমুজ প্রণালির জন্য একটি যৌথ ব্যবস্থাপনার কাঠামো প্রস্তাব করেছে। মালাক্কা প্রণালির ব্যবস্থাপনা থেকে অনুপ্রাণিত ওই পরিকল্পনায় কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে যৌথ তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে জাহাজ চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। এ ব্যবস্থার ব্যয় ব্যবহারকারী দেশগুলোর স্বেচ্ছা অর্থায়নের মাধ্যমে বহনের প্রস্তাবও রাখা হয়।
এদিকে ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নতুন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করছে। তবে আলোচনায় সমাধান না এলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। সেই ঘটনার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে চলাচল স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা না হলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যেও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।