নিজস্ব প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের আলোচিত তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে তিন সহযোগীসহ যশোর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় বিশেষ তল্লাশি চৌকিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে বুধবার সকালে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে চারজনকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেফতার অন্য তিনজন হলেন ঢাকার জুরাইন এলাকার আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল, কুমিল্লার শামীম এবং নোয়াখালীর সাফায়েত হোসেন।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার তদন্তের স্বার্থে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরী এবং রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি এলাকায় সংঘটিত একাধিক চাঁদাবাজি, হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ছোট সাজ্জাদ গ্রেফতারের পর ডেভিড ইমন এবং তার সহযোগীরা ওই নেটওয়ার্কের নেতৃত্বে সক্রিয় ছিলেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটের ঘটনায় ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে। এর আগে একই প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্মার্ট গ্রুপের এক পরিচালকের বাসভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনাসহ আরও কয়েকটি আলোচিত মামলার তদন্তেও ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেফতার করেছিল। সেই ঘটনার তদন্তের ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে ডেভিড ইমন বা তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পর মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।