ভারতজুড়ে বিক্ষোভের রেশ কাটেনি, আটক-গ্রেফতার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সাম্প্রতিক দেশব্যাপী আন্দোলন থেমে গেলেও এর প্রভাব এখনও অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, আটক এবং গ্রেফতারের অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিক্ষোভ-সংক্রান্ত কনটেন্ট অপসারণের বিষয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে গত ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ২১ বছর বয়সী এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও তিনি দাবি করেন, আটক অবস্থায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং একটি রাজনৈতিক নেতার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অন্যায়ভাবে তার নাম জড়ানো হয়েছে।

ওই যুবকের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রথমে তার পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে পাঠায়। পরে তিনি নিজেই থানায় উপস্থিত হলে তাকে আটক রাখা হয়। তিনি দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ছাড়া সহিংসতার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

অন্যদিকে প্রয়াগরাজ পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় ভাঙচুরের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। একই ঘটনায় আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করার কথাও জানানো হয়েছে।

এদিকে বিহারের ভাগলপুরেও বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেখানে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে বাড়ি থেকে আটক করার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা। তাদের দাবি, আন্দোলনের জেরে নাবালকসহ প্রায় ৪০ জনকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বলছে, নাবালককে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী কিশোর বিচার বোর্ডের সামনে হাজির করা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

বিক্ষোভ-পরবর্তী সময়ে সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে প্রকাশ করা বহু সন্দেহভাজনের ছবি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, আন্দোলন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশিত ভিডিও ও পোস্ট ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, বিক্ষোভ-সংক্রান্ত তথ্য প্রচারে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে।

এর আগে টানা ৩৬ দিন আন্দোলন চালানোর পর ককক্রোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিত করে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি বিবেচনার আশ্বাস পাওয়ার পর তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সংগঠনটি সতর্ক করে জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হয়রানি বা দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে তারা আবারও রাজপথে নামবে।

এদিকে আন্দোলন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিক্ষোভকারীদের অধিকার নিয়ে ভারতে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top