নিজস্ব প্রতিনিধি:
অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি নবজাতককে জন্মের পরপরই শালদুধ খাওয়ানোর বিষয়ে চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম)-এ আয়োজিত এক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুর সুস্থ বিকাশে মায়ের প্রথম দুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গর্ভবতী মায়েদের স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত করার পাশাপাশি জন্মের পর নবজাতককে শালদুধ পান করানোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ অপুষ্টি। তার মতে, অনেক শিশু জন্মের পর প্রয়োজনীয় শালদুধ পায় না এবং পরবর্তীতেও সুষম খাদ্যের ঘাটতিতে ভোগে। এ কারণে তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীর চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি চিকিৎসকের মানবিক আচরণ এবং ইতিবাচক মনোভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসকের আশ্বাস ও আন্তরিক ব্যবহার রোগীর মানসিক শক্তি বাড়াতে সহায়ক হয়।
অনুষ্ঠানে তিনি দেশে যক্ষ্মা রোগের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সরকারের চলমান উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় ধাপে ধাপে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়েই ফিজিওথেরাপি সেবা চালুর পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব বৃদ্ধি, মাতৃ ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসা অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।