নিজস্ব প্রতিনিধি:
টানা বর্ষণ ও দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যার প্রভাব কাটতে না কাটতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আবারও বেড়েছে। বিশেষ করে কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ ও ডিমের মূল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ সবজির দামও এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরেনি।
শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচামরিচের দাম এখন প্রতি কেজি প্রায় ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে। খুচরা পর্যায়ে ১০০ গ্রাম মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা এবং ২৫০ গ্রাম ১০০ টাকায়। তবে তুলনামূলক বেশি পরিমাণে কিনলে কিছুটা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। এর আগে এটি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও কয়েক সপ্তাহ আগে দাম ছিল আরও কম।
পেঁয়াজের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। দেশি পেঁয়াজের দাম মানভেদে বর্তমানে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে ছিল। ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়াতে হচ্ছে।
সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম সামান্য কমলেও অধিকাংশ সবজি এখনও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুনের কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, গোল বেগুন ১৮০ টাকা এবং সাদা বেগুন প্রায় ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করল্লা, বরবটি ও অন্যান্য মৌসুমি সবজির দামও ১০০ টাকার আশপাশে রয়েছে। তবে ধুন্দল ও পটলের দাম কিছুটা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কৃষিপণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে এই মূল্যচাপ তৈরি হয়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম বলেও তারা মনে করছেন।
এদিকে ডিমের বাজারেও নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে ছিল। এক মাসের ব্যবধানে ডিমের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
অন্যদিকে মুরগির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সংসারের খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।