আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
সর্বশেষ লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৬২ সেন্ট বা প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে ৮৪ দশমিক ৩৯ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে টানা মূল্যপতনের কারণে ব্রেন্টের দাম তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গিয়েছিল।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ৬১ সেন্ট বা প্রায় ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৯৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের কার্যদিবসে ডব্লিউটিআইয়ের দাম পাঁচ শতাংশের বেশি কমে এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সরবরাহ ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগই তেলের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না।
ইরানের এমন অবস্থানের পরও ট্রাম্প দাবি করেন, দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বিদ্যমান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য এটি ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এবং আলোচনার পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
বিশ্ববাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক তেলের দামের গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে।