নিজস্ব প্রতিনিধি:
চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যু নিয়ে করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনের ওপর আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান গত ২৪ আগস্ট ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। ওই আবেদন শুনানির জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা ২৭ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেন। শুনানির সময় আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সিআইডির রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ডনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উদ্ঘাটনে অগ্রগতি হতে পারে। একই সঙ্গে মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তদন্ত সংস্থার দাবি।
এ ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ডন কীভাবে এবং কার সহায়তায় দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে সিআইডি।
বিমানবন্দর থেকে আটক
সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ডনকে গত ৯ আগস্ট ভোরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ আটক করে। পরে ওই দিন তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে ডনের জামিন আবেদনও আদালতে খারিজ হয়।
এবার তার বিরুদ্ধে করা সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, সেদিকেই নজর রয়েছে।
দীর্ঘ ২৯ বছর পর হত্যা মামলা
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন গ্রহণ করে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরদিন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশরাফুল হক ডনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
সালমান শাহের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক ঘটনা নয় বলে দাবি করে আসছে। ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তার বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরীও ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে আদালতে আবেদন করেছিলেন।
দীর্ঘ সময় পর মামলাটি হত্যা হিসেবে তদন্তের আওতায় আসায় ডনের রিমান্ড শুনানি তদন্তের পরবর্তী গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।