নিজস্ব প্রতিবেদক:
কারিগরি জটিলতার কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল পুনরায় সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টার্মিনাল সচল হওয়ায় ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে।
পেট্রোবাংলার অপারেশন বিভাগের সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম জানান, ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) চালুর পর বৃহস্পতিবার জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থায় প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে এবং রাতের মধ্যেই তা ৭৫০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে চলমান গ্যাস সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ২১ জুলাই কারিগরি ত্রুটির কারণে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। একই সময়ে আরেকটি ভাসমান টার্মিনালও অচল থাকায় এলএনজি আমদানির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়।
এদিকে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন একটি এলএনজি কার্গো ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় পৌঁছেছে। শুক্রবার থেকে ওই কার্গো খালাসের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তাদের মতে, নতুন কার্গো থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে আরও ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ হবে। ফলে সামগ্রিকভাবে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে এবং বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।