নিজস্ব প্রতিবেদক:
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক নৌজোট গঠনের উদ্যোগ আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্য নিয়ে কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে এলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সও প্রস্তাবিত নৌমিশনে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে আগের তুলনায় কম আগ্রহ দেখাচ্ছে। এর আগে টেকসই যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলে এমন একটি নিরাপত্তা মিশনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে দেশ দুটি ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছিল। কিন্তু হরমুজকে ঘিরে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাদের অবস্থান আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর এই দ্বিধা মূলত সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ইরানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এমন একটি সংঘাতে সরাসরি সামরিক ভূমিকা নেওয়া ইউরোপের জন্য রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে যে সংঘাত ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেরা শুরু করেনি এবং যার প্রতি তাদের সরাসরি সামরিক সমর্থনও নেই, সেখানে নিজেদের বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে সরকারগুলো স্বাভাবিকভাবেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
এ ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকেও প্রস্তাবিত নৌজোটের জন্য সুস্পষ্ট ও জোরালো আহ্বান না আসায় ইউরোপের অনাগ্রহ আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (আরইউএসআই) ও সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচ এ হেলিয়ারের মতে, অন্য কোনো পক্ষের হয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাজ্য কিংবা ফ্রান্সের বিশেষ আগ্রহ নেই। আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছ থেকে স্পষ্ট অনুরোধ বা সমর্থন না থাকলে সামরিকভাবে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আরও কম।
হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বের কারণে পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করতে বহুজাতিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ইউরোপীয় মিত্রদের সতর্ক অবস্থান সেই উদ্যোগকে জটিল করে তুলেছে। আঞ্চলিক সমর্থনের ঘাটতি এবং সম্ভাব্য সামরিক ঝুঁকি কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন কতটা কার্যকর আন্তর্জাতিক নৌজোট গঠন করতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।