মানুষের সেবাকে আমানত মনে করে কাজ করুন: ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নিজ নিজ দায়িত্বে সততা, মানবিকতা ও সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থেকে মানুষের সেবা করার সুযোগ একটি বড় আমানত। এই দায়িত্বকে কাজে লাগিয়ে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ইউএনওদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

খাল খনন প্রকল্প নির্ধারিত ব্যয়ে সততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ৮৩টি উপজেলার ইউএনওকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাতে এ সভার আয়োজন করা হয়।

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরকার ও জনগণের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব শুধু সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যে উপজেলায় একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি তার নিজের এলাকা না হলেও দেশেরই অংশ। সেখানে বসবাসকারী মানুষও দেশেরই নাগরিক। তাই তাদের প্রতি নিজের আপনজনের মতো দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে।

সামাজিক সমস্যার সমাধানে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান।

পরিবেশ সংরক্ষণেও স্থানীয় প্রশাসনকে আরও উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সাধারণ মানুষ যেন বেশি করে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত হন, সে জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের উৎসাহ ও সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

খেলাধুলার প্রসারেও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। জাতীয় দিবসের জন্য অপেক্ষা না করে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, নিয়মিত খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়ক।

সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মমত্ববোধ কমে যাওয়ার প্রবণতা রোধে স্থানীয় প্রশাসনকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতিও মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই মানবিক মূল্যবোধ এবং প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি মমত্ববোধ শেখানো প্রয়োজন। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে সব ধরনের প্রাণ ও প্রকৃতির জন্য নিরাপদ পরিবেশ থাকবে।

সভায় বিভিন্ন উপজেলার ইউএনওরা খাল খননের ফলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের তথ্য তুলে ধরেন। তারা জানান, খাল পুনঃখননের ফলে কয়েকটি এলাকায় কৃষি উৎপাদন বেড়েছে এবং যেখানে আগে বছরে দুইটি ফসল হতো, সেখানে এখন তিনটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের অন্যতম লক্ষ্য হলো দেশের ঐতিহ্যবাহী নদী-খালনির্ভর জলব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করা। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে পানি নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তাই আগেভাগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

দেশজুড়ে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সভায় ৮৩ জন ইউএনও ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top