নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে যোগ্যতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে দুর্বল বা অযোগ্য কাউকে সমর্থন দেওয়া হলে দলের জন্য তা নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। তাই যোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর তার পক্ষে দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছয় শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
সভায় তারেক রহমান দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন বলে সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে। দলের পক্ষে শক্তিশালী প্রার্থী নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ দুর্বল প্রার্থীকে সামনে আনা হলে প্রতিপক্ষ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দলীয়ভাবে প্রার্থী নির্ধারণের পর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হবে। নির্বাচনী মাঠে দলের ঐক্যই প্রার্থীর শক্তি বাড়াবে বলে তিনি নেতাকর্মীদের জানান।
সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নানা ধরনের ষড়যন্ত্র এখনো সক্রিয় রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গুপ্ত তৎপরতা ও ফ্যাসিবাদী শক্তির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।
সাম্প্রতিক একটি শিশু হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গও সভায় তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিশু রামিসার ঘটনায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই বিচার শেষ হলেও এ নিয়ে একটি মহল মিথ্যা প্রচার চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান দলটির নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যে বিভেদ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। তিনি বিএনপিকে একটি পরিবারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, পরিবারের মতো সংগঠনকেও ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে, যাতে কোনো বিভাজন দলীয় কাঠামোকে দুর্বল করে না দেয়।
সভায় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার বিষয়েও নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশেষ করে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো উদ্যোগের বিষয়ে জনগণকে অবহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি পরিচালনা করেন দলের সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান। এতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
সাংগঠনিক সভায় স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতি, আসন্ন নির্বাচন এবং দলীয় কার্যক্রম নিয়ে নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়। দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও তৃণমূলের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।