আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট মোকাবিলায় অস্থায়ী একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি রয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে দুই দেশের আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্বারপ্রান্তে।
তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে সাময়িক নৌপথ চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর কাছাকাছি বলে জানান তিনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে ইরান ও ওমানের এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রণালিটি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের বড় একটি অংশ পরিচালিত হওয়ায় এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হরমুজ সংকট মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যেকোনো সমঝোতা বা সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু বিচ্যুতি ঘটতে পারে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংঘাতের পরিবর্তে একটি বিশেষ ব্যবস্থাপনা বা পর্যবেক্ষণ দল গঠন করা প্রয়োজন ছিল বলে মত দেন তিনি।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে আলোচনার মাধ্যমে সংকট ব্যবস্থাপনার ওপর ইরানের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। হরমুজকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনাও এতে সামনে এসেছে।
এদিকে হরমুজ সংকটের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত প্রকাশ্যে খুব বেশি আলোচনা করছে না। তবে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার নীতি অব্যাহত থাকবে বলে তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, সমুদ্রপথে মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যকর অবরোধ ইরান সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এর ফলে দেশটির চলমান অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ অবস্থায় একদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য ইরান-ওমানের আলোচনা এগোচ্ছে, অন্যদিকে তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক সমঝোতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ—তিনটি ক্ষেত্রেই হরমুজকে ঘিরে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।