নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলীয় প্রার্থী করার আলোচনা নতুন করে জোরালো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে নানা খবর ছড়িয়ে পড়লেও বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন নিশ্চিত করা হয়নি।
রোববার (৯ আগস্ট) রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল নিজেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের বিষয়টি তার জানা নেই।
এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দলীয় প্রস্তুতির মধ্যেই মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিকও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ বিরতির পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই সময় ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।
১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুল বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সময়ে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। পরে ২০০১ সালের নির্বাচনে একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রমেশ চন্দ্র সেনকে পরাজিত করে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফখরুল।
সংসদ সদস্য হওয়ার পর তৎকালীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পান তিনি। প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি সরকারের দায়িত্বে ছিলেন।
এরপর বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুল সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালের মার্চে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর থেকে দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন এবং ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।
ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি এখন প্রকাশ্য পর্যায়ে চলে এসেছে। বিএনপির সংগ্রহ করা দুটি মনোনয়নপত্র এবং মির্জা ফখরুলকে ঘিরে চলমান আলোচনা দলটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল আরও বাড়িয়েছে। তবে মনোনয়ন জমার শেষ সময়ের আগে বিএনপির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে দলটির প্রার্থী কে হচ্ছেন।