আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার নির্দেশের অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালে নতুন কল রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার নির্দেশসংক্রান্ত কথোপকথনের নতুন অডিও রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের কথোপকথন রয়েছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এসব অডিও রেকর্ডের নতুন অংশ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এর আগের দিন সোমবারও শেখ হাসিনার সঙ্গে ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদের কথোপকথনের অডিও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছিল প্রসিকিউশন।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে অডিওগুলো উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। পরে সাংবাদিকদের কাছে কথোপকথনের একটি অনুলিপিও দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি, অডিওতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা সহিংসতা, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশসংক্রান্ত কথাবার্তা রয়েছে।

নথিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই শেখ হাসিনা, হাছান মাহমুদ ও ওবায়দুল কাদেরের মধ্যে এসব ফোনালাপ হয়।

১৯ জুলাই দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটের কথোপকথনে শেখ হাসিনা ও হাছান মাহমুদের মধ্যে ‘পাল্টা আগুন’ দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠে আসে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে। ওই কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বাড়ি ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার বিপরীতে তাদের বাড়িঘর ও সম্পত্তিতে পাল্টা হামলার কথা বলা হয়েছে বলে অডিওর অনুলিপিতে উল্লেখ রয়েছে।

হাছান মাহমুদ কথোপকথনে এই অবস্থানকে ‘টিট ফর ট্যাট’ হিসেবে সমর্থন করেন বলে প্রসিকিউশনের দেওয়া অনুলিপিতে দাবি করা হয়েছে। তিনি আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার প্রসঙ্গ তুললে শেখ হাসিনা সংশোধন করে নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার কথা বলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

একইসঙ্গে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ‘প্রোটেকশনের’ ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরবর্তী পর্যায়ে ওবায়দুল কাদের ওই ফোনালাপে যুক্ত হন বলে নথিতে বলা হয়েছে। এ সময় সেতু ভবনে আগুন দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সেখানে র‍্যাব পাঠানোর কথা বলেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়ার কথাও কথোপকথনের অনুলিপিতে রয়েছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অডিও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা প্রমাণের অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এর আগে একই মামলার শুনানিতে আন্দোলনকারীদের জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ এবং আন্দোলনকারীদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার দায় অন্যদের ওপর চাপানোর বিষয়ে কথোপকথনের অডিওও উপস্থাপন করা হয়।

তবে আদালতে উপস্থাপিত অডিওগুলোর সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা শেষ পর্যন্ত বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাই হবে। প্রসিকিউশন এসব রেকর্ডকে তাদের মামলার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top