নিজস্ব প্রতিবেদক:
মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো শক্তিকে দেশের জনগণ ভবিষ্যতে আর রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানীতে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ হাসিনা ও তার পরিবার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছিল। তার দাবি, এ কারণেই স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এবং তার পরিবারের দেশপ্রেম শেখ হাসিনা মেনে নিতে পারেননি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর যোদ্ধা এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার পরিবারও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। অথচ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ওই পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের মুখোমুখি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুকে ফ্যাসিবাদী শাসনের চূড়ান্ত পরিণতির একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন রিজভী। তার ভাষ্য, জিয়া পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে বিপর্যস্ত করতে তৎকালীন সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ও দেশপ্রেমকে শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করতে পারেননি। এ কারণে তার পরিবারকে কেন্দ্র করে একের পর এক ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাকেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এবং চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডনে যেতে হয়েছিল। বর্তমানে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে রিজভী দাবি করেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে।
আরাফাত রহমান কোকোর ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে ভূমিকার প্রশংসা করে রিজভী বলেন, দেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রিজভী বলেন, ক্রীড়া খাত নিয়ে কোকোর যে স্বপ্ন ও উদ্যোগ ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে তার প্রতি যথাযথ সম্মান জানানো হবে। এতে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাও আরও অর্থবহ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।