নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে খাবারের ছবি তোলার ঘটনায় তৎকালীন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ-সংক্রান্ত একটি ফোনালাপের প্রতিলিপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন ফোনালাপটির তথ্য তুলে ধরেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে হারুন অর রশীদের কথোপকথনে সমন্বয়কদের সঙ্গে খাবারের আয়োজন ও সেই সময় ছবি তোলার বিষয়টি উঠে আসে।
ফোনালাপে হারুন দাবি করেন, সমন্বয়কদের খাবার দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে নেওয়া হয়নি। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধানের নির্দেশেই খাবারের ব্যবস্থা এবং ছবি তোলা হয়েছিল বলে তিনি ওবায়দুল কাদেরকে জানান।
কথোপকথনে ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন তোলেন, খাবারের ছবি বাইরে প্রকাশ করার প্রয়োজন কেন হয়েছিল। জবাবে হারুন জানান, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই ছবিগুলো প্রকাশ করা হয়েছিল।
আলোচনার একপর্যায়ে হারুন তার বদলি ঠেকানোর জন্য ওবায়দুল কাদেরের কাছে সহযোগিতা চান। তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির নির্দেশ অনুসারেই দায়িত্ব পালন করেছেন।
হারুন আরও দাবি করেন, সমন্বয়কদের নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় নিয়মিত বৈঠক হতো এবং সেখানে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো, তিনি সেগুলোই বাস্তবায়ন করতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে সিদ্ধান্তও তিনি নিজ উদ্যোগে নেননি।
ফোনালাপে হারুন জানান, তাকে ডিবির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় ওবায়দুল কাদের বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, সমন্বয়কদের সঙ্গে খাবারের ছবি প্রকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এর পর ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই হারুন অর রশীদকে ডিবি প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এর আগেও একাধিক ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এসব কথোপকথনের মাধ্যমে আন্দোলন চলাকালে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সিদ্ধান্ত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আন্দোলনকারীদের বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপের প্রেক্ষাপট তুলে ধরার চেষ্টা করছে প্রসিকিউশন।
ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত ফোনালাপের সত্যতা ও এর প্রমাণমূল্য বিচারিক প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করা হবে।