সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা নয়, নিরাপত্তা বিবেচনায় কনসার্ট বাতিল হতে পারে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি:

দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সরকার কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে চায় না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো কনসার্ট বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল হলেই সেটিকে সরকারের অসহযোগিতা কিংবা আপত্তির ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ নানা বাস্তব কারণে কোনো অনুষ্ঠান স্থগিত বা বাতিল হতে পারে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক আয়োজনের ক্ষেত্রে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের আপত্তির প্রসঙ্গ উঠে এলে আন্দালিভ রহমান বলেন, কোনো অনুষ্ঠান বাতিলের পেছনে প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা থাকলে প্রশাসন সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

সাংস্কৃতিক আয়োজনে সরকারের আপত্তি নেই

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে নিয়মিত বড় পরিসরে কনসার্ট ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। তাই কোনো একটি অনুষ্ঠান বাতিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের সামগ্রিক অবস্থান সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

তার ভাষায়, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত করার কোনো মানসিকতা সরকারের নেই। তবে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলে সেটিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে আসছে এমন একটি গোষ্ঠী রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলেও আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অগ্রগতির দাবি

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী অস্থির পরিস্থিতি থেকে দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কোনো একটি গোষ্ঠী প্রভাবশালী হয়ে উঠলে রাতারাতি পরিস্থিতির পুরো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানো এবং তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে সরকার কাজ করছে।

জাহেদ উর রহমান জানান, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তার দাবি, সংস্কৃতির বিকাশে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

গণমাধ্যমকে কোনো সংবাদ নির্দেশনা দেওয়া হয়নি

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আন্দালিভ রহমান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সংবাদ প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ বা সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ। সরকার সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের অধিকারকে স্বীকার করে।

তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। তার মতে, দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নের হাজার হাজার ওয়ার্ডে বিচ্ছিন্ন অপরাধের ঘটনা ঘটতেই পারে। প্রতিটি ঘটনাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়, যাতে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব—এমন ধারণা তৈরি হয়।

সংবেদনশীল সময় পার করছে বাংলাদেশ

আন্দালিভ রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাস্তবতাও সরকারকে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

তিনি জানান, দীর্ঘ সময়ের পুরোনো প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েই বর্তমান সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সময় প্রয়োজন।

সরকারের গণমাধ্যমবান্ধব অবস্থানের উদাহরণ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিজের ও প্রতিমন্ত্রীর ছবি কম প্রচারের অনুরোধের কথাও উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের ফেরানোর দাবি

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যারা বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্ত, তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় বিচার করতে চায়।

জুলাই আন্দোলনসহ বিভিন্ন ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারি টেলিভিশনে বিরোধীদের খবর প্রচারের নির্দেশ

এদিকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, সরকারি টেলিভিশনগুলোতে বিরোধী দলের বক্তব্য ও কার্যক্রম আরও বেশি প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিটিভি, সংসদ টেলিভিশনসহ সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমে শুধু মন্ত্রী ও সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সংবাদ প্রচার করা হবে না। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য এবং সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যও আনুপাতিকভাবে তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করলেও জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বক্তব্য সংবাদে স্থান পাওয়া উচিত। এটিই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ।

একই সঙ্গে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও সরকারের কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। মঙ্গলবার থেকেই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top