নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ‘রাজনৈতিক জোকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে নিজেদের ঘনিষ্ঠদের প্রথম শ্রেণির এবং অন্যদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করত। তার অভিযোগ, দলটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সময়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেগুলো একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমিনুল ইসলাম ওবায়দুল কাদেরকে দেশের রাজনীতির একজন ‘পলিটিক্যাল ক্লাউন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রভাব জুলাই আন্দোলনের সময় সহিংসতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন। মামলার অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।
মামলার সাত আসামির বিরুদ্ধেই ব্যক্তিগত দায়ের পাশাপাশি ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সাহস না পায়।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
মামলার নথি অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিদের নির্দেশনা, উসকানি ও সহিংসতা পরিকল্পনার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে নামানো, সহিংস কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন স্থানে দমন-পীড়নের অভিযোগও রয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।
গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। পরে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। গত ৪ আগস্ট থেকে মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে।