নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাকে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী শপথ নিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ব্যক্তিকে দায়িত্ব গ্রহণের আগে নির্ধারিত শপথ নিতে হয়। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে তৃতীয় তফশিলে উল্লিখিত পদে দায়িত্ব নেওয়ার আগে শপথ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একই সঙ্গে এসব পদে শপথ পাঠ করানোর সাংবিধানিক ব্যবস্থাও নির্ধারিত রয়েছে।
বর্তমানে দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এর ফলে সংসদের স্পিকারের নিয়মিত দায়িত্ব পালনের বিষয়টি বর্তমানে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।
সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলে সংসদের স্পিকারের কার্যাবলি ডেপুটি স্পিকার সম্পাদন করেন। সেই সাংবিধানিক ব্যবস্থার কারণেই কায়সার কামাল বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন।
এই প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার শপথ গ্রহণের সময় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালই শপথ পাঠ করাতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপি ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলকে দলের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে। প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি দলের মহাসচিব পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে দলটি।
নির্বাচনে মির্জা ফখরুল নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে শপথ গ্রহণই হবে তার প্রথম সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের দায়িত্বের বিশেষ সাংবিধানিক পরিস্থিতির কারণে সেই শপথ অনুষ্ঠানেও কায়সার কামালের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।