নিজস্ব প্রতিনিধি:
বৈরী আবহাওয়া ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে কমে যাওয়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সামিট এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হওয়ায় শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দুটি টার্মিনাল থেকে মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে এই দুই টার্মিনাল থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিট এলএনজি টার্মিনালে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। টার্মিনালের জন্য নির্ধারিত এলএনজিবাহী একটি জাহাজ অতিরিক্ত বাতাস ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গত ১০ আগস্ট সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এতে সামিটের সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়।
পরে নতুন একটি এলএনজিবাহী জাহাজ টার্মিনালে পৌঁছালে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শনিবার ভোর ৪টা থেকে সামিট টার্মিনাল পুনরায় স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। বর্তমানে এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এই সরবরাহ ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালিত এলএনজি টার্মিনাল থেকেও কিছু সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। আংশিক মেরামতের পর বর্তমানে ওই টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের মেরামতকাজ আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কাজ সম্পন্ন হলে ওই টার্মিনাল থেকে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে।
দুটি টার্মিনালের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজির দৈনিক সরবরাহ আবারও প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে সাম্প্রতিক গ্যাস সরবরাহ ঘাটতির কারণে তৈরি হওয়া চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।