নিজস্ব প্রতিনিধি:
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে প্রাপ্য অর্থের জন্য শিক্ষকদের আর বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হবে না। কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে।
শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দীর্ঘ চার বছর পর বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ৭০ হাজার ১১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা তাদের প্রাপ্য অর্থের একটি অংশ পেয়েছেন। ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’-এর তহবিল থেকে অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবসর সুবিধার অর্থ পেতে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অর্থ বিতরণ করা হবে, যাতে কাউকে টাকা পেতে অফিসে অফিসে ঘুরতে না হয়।
শিক্ষকদের অর্থ পেতে হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, যেসব শিক্ষক লাখো শিক্ষার্থীকে নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেন, তাদের নিজেদের প্রাপ্য অর্থ পেতে ঘুষ দেওয়া কিংবা বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরাঘুরি করতে হলে সেটি জাতির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই ভোগান্তিমুক্তভাবে ব্যাংক হিসাবে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, আগের সরকারের সময়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ তহবিলেও অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাল ইনডেক্স তৈরি, দুর্বল ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তর এবং তহবিলের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নষ্ট হওয়ার কারণে দুটি তহবিলই আর্থিক সংকটে পড়ে। এর ফলে ২০২২ সালের পর থেকে অনেক শিক্ষক তাদের প্রাপ্য অর্থ পাননি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলেও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দুর্ভোগ বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থায় অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন আটকে থাকা অর্থের একটি অংশ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের হিসাবে পাঠানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ২০০২ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল।
শিক্ষকদের সামাজিক ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষকতা এমন একটি পেশা, যার মাধ্যমে অন্য সব পেশার ভিত্তি তৈরি হয়। চাকরি থেকে অবসর নিলেও সমাজের প্রতি শিক্ষকদের দায়িত্ব শেষ হয় না। মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা গঠনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।