বিল গেটস-কন্যার স্টার্টআপ নিয়ে বিতর্ক, কোডিং দক্ষতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মেয়ে ফিবি গেটসের প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ ‘ফিয়া’কে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও শিক্ষাগত প্রস্তুতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহপাঠীদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফিবির কম্পিউটার সায়েন্স ও অ্যাডভান্সড কোডিংয়ে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত।

২৩ বছর বয়সী ফিবি স্ট্যানফোর্ডে হিউম্যান বায়োলজি নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহপাঠীর দাবি, তার স্নাতক ডিগ্রির পাঠ্যক্রমে কম্পিউটার সায়েন্সের কোনো কোর্স বাধ্যতামূলক ছিল না। ফলে তিনি অ্যাডভান্সড কোডিংয়ের ক্লাসও করেননি। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কোর্স সম্পন্ন না করে সরাসরি উচ্চতর কোডিং কোর্সে যাওয়ার সুযোগও তার ছিল না বলে ওই সূত্রের দাবি।

তবে প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা বিষয়ক শিক্ষার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। ফিবি ‘অ্যাপ্লায়েড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ এবং উদ্যোক্তা বিষয়ক একটি কোর্স করেছিলেন বলে জানা গেছে। এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তার স্টার্টআপের ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

স্ট্যানফোর্ডের রুমমেট সোফিয়া কিয়ানির সঙ্গে যৌথভাবে ফিবি ‘ফিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি একটি ডিজিটাল ব্যক্তিগত শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে এবং অনলাইন কেনাকাটায় ব্যবহারকারীদের পণ্য খুঁজে পেতে সহায়তা করার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠে।

কিন্তু সম্প্রতি ফিয়ার কার্যক্রম নিয়ে ‘কুকি স্টাফিং’-এর অভিযোগ সামনে আসার পর প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক মহলে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। অভিযোগটি মূলত এমন একটি প্রক্রিয়া নিয়ে, যার মাধ্যমে কোনো ব্যবহারকারীকে প্রকৃতপক্ষে নির্দিষ্ট বিক্রেতার কাছে পাঠানো না হলেও সেই বিক্রির কমিশন দাবি করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ফাঁস হওয়া কিছু অভ্যন্তরীণ স্ল্যাক বার্তা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা কিয়ানি প্রকৌশলীদের সঙ্গে কুকি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। এসব বার্তা থেকেই অভিযোগ উঠেছে, বিতর্কিত ‘অটো ড্রপ’ ফিচারটি কেবল অনিচ্ছাকৃত সফটওয়্যার ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই ফিচারের মাধ্যমে ফিয়া এমন কিছু কেনাকাটার ওপরও কমিশন পেয়ে থাকতে পারে, যেখানে প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে ক্রেতাকে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার কাছে পাঠায়নি।

ফিয়ার পক্ষ থেকে অবশ্য অভিযোগের সবগুলো দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিতর্কিত ফিচারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং যেসব বিক্রি এর মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোম্পানির প্রাথমিক বক্তব্য ছিল, বিষয়টি একটি সফটওয়্যার বাগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে ফিচারটি বন্ধ করার পর ফিয়ার আয়ে উল্লেখযোগ্য পতনের তথ্যও সামনে এসেছে। ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, জুলাইয়ে বিতর্কিত ফিচারগুলো বন্ধ করার পর কোম্পানিটির দৈনিক গড় আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার থেকে কমে প্রায় ১০ হাজার থেকে ২৮ হাজার ডলারের মধ্যে নেমে আসে।

ফিবির প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিয়েও স্ট্যানফোর্ডের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমনকি ফিয়া প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কম্পিউটার সায়েন্স শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি করেছিলেন বলেও একটি সূত্রের দাবি।

ফিয়ার আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা সোফিয়া কিয়ানির শিক্ষাগত পটভূমি নিয়েও একই ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। তিনি স্ট্যানফোর্ডে ‘সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড সোসাইটি’ বিষয়ে পড়াশোনা করলেও কম্পিউটার সায়েন্সের প্রচলিত কোনো কোর্স করেননি বলে তার প্রতিনিধির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইনি ঝুঁকির বিষয়টিও এখন আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলেও ফিবি ও কিয়ানির বিরুদ্ধে সরাসরি দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের মতো শাস্তির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। তবে দেওয়ানি মামলা এবং বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

ফলে বিল গেটসের কন্যা হিসেবে পরিচিতি, স্ট্যানফোর্ডের শিক্ষাজীবন এবং দ্রুত উত্থান—সবকিছুর পাশাপাশি ফিয়ার ব্যবসায়িক পদ্ধতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এখন নতুন করে যাচাইয়ের মুখে পড়েছে। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে আরও তদন্ত ও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top