নিজস্ব প্রতিবেদক:
দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর পারস্পরিক ভাবমূর্তি নিয়ে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। বিপরীতে ভারতে বাংলাদেশের বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কম এবং সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও নেমেছে।
তবে উল্লেখিত ৬৬, ৫৬ ও ২৫ শতাংশের পরিসংখ্যানকে পিউ রিসার্চের ২০২৪ সালের দক্ষিণ এশিয়া-সংক্রান্ত প্রকাশিত জরিপের সঙ্গে সরাসরি মেলানো যাচ্ছে না। ওই জরিপে পাকিস্তানে ২০২৪ সালে জরিপ পরিচালনা করা হয়নি। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ হাজার ১২৪ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত জরিপ চালানো হয়েছিল।
পিউয়ের প্রকাশিত ২০২৪ সালের ফলাফলে দেখা যায়, শ্রীলঙ্কার ৪৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক মত দিয়েছেন। ভারতে বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ছিল ৩৫ শতাংশের মধ্যে। একই সঙ্গে দুই দেশেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ বাংলাদেশের বিষয়ে কোনো মতামত দিতে পারেননি।
জরিপে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়, শিক্ষা ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রভাবও পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে ধর্মীয় পরিচয়ের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পিউয়ের বিশ্লেষণ বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পরস্পরকে দেখার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং ধর্মীয় পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই দেশের ভেতরেও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে কোনো প্রতিবেশী দেশ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিতে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান থাকতে পারে।
বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের জনমত প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোর পরিবর্তনও আলোচনায় এসেছে। তবে পিউ রিসার্চের ২০২৪ সালের মূল প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের ইতিবাচক মনোভাবের হার ৩৫ শতাংশ বলা হয়েছিল; ২০২৪ সালের পর তা ১০ পয়েন্ট কমে ২৫ শতাংশ হয়েছে—এমন দাবি ওই প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণাগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার জনমতকে একটি বহুমাত্রিক বাস্তবতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামা, মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও ধর্মীয় পরিচয়—সব মিলিয়েই এসব দেশের প্রতি সাধারণ মানুষের মনোভাব গড়ে ওঠে।
ফলে বাংলাদেশের প্রতি আঞ্চলিক জনমত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে শুধু একটি দেশের সামগ্রিক শতাংশ নয়, বরং জরিপের বছর, নমুনা, প্রশ্নের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর পার্থক্যও বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।