পানি, বর্জ্য ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মার্কিন বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানও উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈঠকটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও এর ফাঁকে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। নতুন দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মার্কিন রাষ্ট্রদূত শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে পিপিপি মডেলের মাধ্যমে এসব খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র। দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমা হচ্ছে। সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব বর্জ্যকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে এগিয়ে চলছে। চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় আগামী ১৮ থেকে ২০ মাসের মধ্যে বর্জ্য ব্যবহার করে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

বাংলাদেশের পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে পরবর্তী ধাপে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও বিস্তারিত বৈঠক করবেন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সচিব পর্যায়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হতে পারে। এসব আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও নির্দিষ্ট করা হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টিও উঠে আসে। দুই দেশের সরকারের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ককে আরও গভীর করে ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

তবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের বিষয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নয়; এগুলো নিয়ে পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করবে।

বাংলাদেশে নগর ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি সরবরাহ, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এসব ক্ষেত্রে বিদেশি প্রযুক্তি, পুঁজি ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পিপিপি প্রকল্প বাড়ানো গেলে নগরসেবা উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top